
“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অপরকে শেখায়।”— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস নং ৫০২৭ | বর্ণনাকারী: হযরত উসমান (রা.)
প্রকল্পের পরিচিতিঃ-
জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মদরাসা সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কথা বিবেচনায় রেখে “বয়স্কদের নূরাণী কোরআন শিক্ষা প্রকল্প” পরিচালনা করে আসছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যেসকল বয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষ শৈশবে কোরআন শিক্ষার সুযোগ পাননি, তাদেরকে সহজ ও কার্যকর নূরাণী পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআনুল কারিম তেলাওয়াত শেখানো হয়। আমাদের সমাজে দারিদ্র্য, সুযোগের অভাব বা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে অনেক মুসলিম কোরআন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই মদরাসা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে — কোরআন শিক্ষার কোনো বয়স নেই। আল্লাহ তা’আলার পবিত্র বাণী শেখার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী “যে ব্যক্তি কোরআন পড়তে পড়তে হোঁচট খায়, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব” (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৯৮) — এই অনুপ্রেরণায় আমরা চাই প্রতিটি মুসলিম যেন তার সাধ্যমতো কোরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন।
প্রকল্পের উদ্দেশ্যসমূহঃ-
- প্রবীণদের মাঝে কোরআনিক সাক্ষরতা নিশ্চিত করা
- সহিহ উচ্চারণে নামাজ আদায়ে সক্ষম করে তোলা
- প্রয়োজনীয় দোয়া ও সূরা মুখস্থ করানো
- পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ গড়তে সহায়তা করা
- আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও আত্মিক উন্নয়নে সহায়তা
- সমাজে ইসলামি শিক্ষার প্রসার ঘটানো
- যে কোনো বয়সে কুরআন শেখার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বয়সের বাধা দূর করা
- নূরানী পদ্ধতিতে সহজ ও কার্যকরভাবে হরফ চেনা থেকে সহীহ্ তিলাওয়াত শেখানো
- নামাজের সূরা, দোয়া-দরূদ ও কালিমা সঠিকভাবে আয়ত্ত করানো
- বয়স্কদের মনে ইসলামী জ্ঞান ও আমলের প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করা
পাঠ্যক্রমঃ
- আরবি বর্ণমালা পরিচিতি ও সঠিক উচ্চারণ
- হরকত শিক্ষা: ফাতহা, কাসরা, দাম্মা
- জযম, তাশদীদ ও তানভিনের নিয়মাবলী
- মাদ্দ ও লীন অক্ষর শিক্ষা
- মিলিয়ে পড়ার অনুশীলন (নূরাণী কায়দা)
- তাজবিদের মৌলিক নিয়মাবলী
- সহিহ মাখরাজ অনুযায়ী তেলাওয়াত
- ছোট সূরাসমূহ মুখস্থকরণ
- দৈনন্দিন নামাজের দোয়া অনুশীলন
- কোরআন তেলাওয়াতের শিষ্টাচার ও আদব
প্রকল্পের বিশেষ কার্যক্রম
- নূরানী পদ্ধতিতে পাঠদান— বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নূরানী পদ্ধতিতে সহজ, সরল ও কার্যকরভাবে পাঠ দেওয়া হয়।
- বয়স্কবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ— ধৈর্যশীল শিক্ষক, আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং লজ্জামুক্ত পরিবেশে শেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
- পুরুষ ও মহিলা আলাদা ক্লাস— পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা সময়সূচিতে আলাদা কক্ষে ক্লাস পরিচালিত হয়।
- সাপ্তাহিক মূল্যায়ন— প্রতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি যাচাই করে উৎসাহ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।
- বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ— নূরানী কায়দা, কুরআন শরীফ ও দোয়ার বই বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
- সমাপনী সনদ প্রদান— কোর্স সম্পন্নকারী প্রতিটি বয়স্ক শিক্ষার্থীকে সনদপত্র প্রদান করে সম্মানিত করা হয়।
সুবিধাভোগী ও প্রভাব
- বয়স্ক পুরুষ
- বয়স্ক মহিলা
- গৃহিণী
- কৃষক ও শ্রমজীবী
- প্রবীণ নাগরিক
“বয়স হয়ে গেছে, এখন আর শিখতে পারব না” — এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে কষ্ট করে পড়ে তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার। তাই বার্ধক্যে কুরআন শেখার চেষ্টা করা আরও বেশি সওয়াবের কাজ।
ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র শেখার আগ্রহই যথেষ্ট। আসন সংখ্যা সীমিত, তাই আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন।
কোরআনিক ও হাদিস রেফারেন্স
সূরা আল-কামার (৫৪:১৭) — “আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কেউ কি উপদেশ গ্রহণ করবে?”
সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫০২৭ — “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।” (বর্ণনা: হযরত উসমান রা.)
সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭৯৮ — “যে ব্যক্তি কোরআন পড়তে গিয়ে হোঁচট খায়, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব।” (বর্ণনা: হযরত আয়েশা রা.)
সুনানে তিরমিযি, হাদিস ২৯১০ — “কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য প্রতিটি হরফে দশটি নেকি।” (বর্ণনা: হযরত ইবনে মাসউদ রা.)
নূরাণী কায়দা — মাওলানা নূর মুহাম্মদ হাক্কানী (রহ.) প্রণীত বিশ্বব্যাপী প্রচলিত সহজ কোরআন শিক্ষা পদ্ধতি।
ভর্তি ও সাধারণ তথ্য
বয়সসীমা- ৩০ বছর ও তদূর্ধ্ব
ক্লাসের সময়-ফজর পরবর্তী / আসরের পর
কোর্সের মেয়াদ- ৩ থেকে ৬ মাস (স্তর অনুযায়ী)
শিক্ষার মাধ্যম- বাংলায় সহজ ব্যাখ্যাসহ
ভর্তি ফি- সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
স্থান- মাদরাসা প্রাঙ্গণ, ভাটি সাভার
যোগাযোগ করুন
হাফেজ মুফতী মোঃ তাজুল ইসলাম
মুহতামিম — জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মদরাসা
মোবাইল: 01999911699 | 01999911633
যোগাযোগের সময়: শনি–বৃহস্পতি, সকাল ৯টা – রাত ৯টা
সরাসরি মদরাসায় এসেও যোগাযোগ করতে পারেন
