আপডেট

হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা

হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা
  • – হজ পালনেচ্ছুদের সহীহ মাসায়েল ভিত্তিক বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ।

    হজ্বের গুরুত্ব কুরআন ও হাদীসের আলোকে

    وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا

    “সামর্থ্যবান প্রতিটি মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ্ব আদায় করা ফরজ।” সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭

    الْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّةُ

    “মাবরুর হজ্বের (কবুল হজ্বের) প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” সহীহ বুখারী: ১৭৭৩ | সহীহ মুসলিম: ১৩৪৯

    مَنْ حَجَّ لِلَّهِ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ

    “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ্ব করে এবং অশ্লীল কথা ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে সেদিনের মতো ফিরে আসে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।”সহীহ বুখারী: ১৫২১ | সহীহ মুসলিম: ১৩৫০

     

    প্রকল্পের পটভূমিঃ

    হজ্ব ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি এবং সামর্থ্যবান মুসলমানের জীবনে একবার ফরজ। কিন্তু হজ্বের সঠিক নিয়ম-কানুন, মানাসিক, দোয়া-দরূদ ও প্রস্তুতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় অনেক হাজীসাহেব হজ্বের পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হন। এই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতকে সঠিকভাবে আদায়ের সুযোগ করে দিতে জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদরাসা প্রতি বছর হজ্ব মৌসুমের পূর্বে “হজ্ব প্রশিক্ষণ কর্মশালা” আয়োজন করে থাকে।

    প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

    লক্ষ্য ০১: হজ্বের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া

    লক্ষ্য ০২: মানাসিক ও হজ্বের প্রতিটি ধাপ হাতে-কলমে অনুশীলন করানো

    লক্ষ্য ০৩: হজ্বের সফরে করণীয়-বর্জনীয় ও সাধারণ ভুলত্রুটি সম্পর্কে সচেতন করা

    লক্ষ্য ০৪: উমরা, তাওয়াফ, সায়ী ও অন্যান্য আমল সঠিকভাবে শিক্ষা দেওয়া

     

    কর্মশালার বিষয়বস্তু ও পাঠ্যক্রমঃ

    • হজ্বের পরিচয় ও প্রকারভেদ — হজ্বে ইফরাদ, কিরান ও তামাত্তু-র বিস্তারিত আলোচনা এবং কোনটি কীভাবে আদায় করতে হয়।
    • ইহরাম বাঁধার নিয়ম — ইহরামের কাপড়, নিয়ত, তালবিয়া পাঠ এবং ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজসমূহ।
    • তাওয়াফ ও সায়ীর প্রশিক্ষণ — কাবা শরীফের তাওয়াফের নিয়ম, দোয়া ও সাফা-মারওয়ার সায়ীর পদ্ধতি।
    • আরাফাত, মুযদালিফা ও মিনার আমল — ওকুফে আরাফার গুরুত্ব, মুযদালিফায় রাত যাপন ও মিনায় কংকর নিক্ষেপের নিয়ম।
    • কোরবানি ও মাথা মুণ্ডন — হজ্বের কোরবানির নিয়ম, হলক বা তাকসীর এবং ইহরাম খোলার পদ্ধতি।
    • মদীনায় যিয়ারত — মসজিদে নববী, রওজা শরীফ ও মদীনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শনের আদব।
    • হজ্বের দোয়া ও যিকর — প্রতিটি আমলের সাথে পঠিতব্য দোয়া, তালবিয়া, তাকবীর ও বিশেষ মোনাজাত অনুশীলন।

    কর্মশালার সময়সূচিঃ

    প্রথম: হজ্বের ফজিলত ও ফিকহী মাসায়েল, কুরআন-হাদীসের আলোকে হজ্বের গুরুত্ব, শর্ত ও প্রকারভেদ আলোচনা

    দ্বিতীয়: ইহরাম, তাওয়াফ ও সায়ী, ইহরামের নিয়ম, তাওয়াফের ধাপ ও সাফা-মারওয়ার সায়ীর হাতে-কলমে অনুশীলন

    তৃতীয়: আরাফাত থেকে মিনা পর্যন্ত, ওকুফে আরাফা, মুযদালিফা, কংকর নিক্ষেপ ও কোরবানির বিস্তারিত আলোচনা

    চতুর্থ: দোয়া, মদীনা যিয়ারত

     

    বিশেষ হাদীস প্রশিক্ষণের অনুপ্রেরণাঃ-

    خُذُوا عَنِّي مَنَاسِكَكُمْ

    “তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের হজ্বের বিধিবিধান শিখে নাও।” সহীহ মুসলিম: ১২৯৭ | মিশকাত: ২৫৫৫

    এই হাদীসটি হজ্ব প্রশিক্ষণের মূল ভিত্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই নির্দেশ দিয়েছেন হজ্বের বিধান শিখে নিতে — তাই সঠিক প্রশিক্ষণ ছাড়া হজ্বে যাওয়া উচিত নয়।

    অংশগ্রহণকারী ও সুবিধাভোগীঃ

    • হজ্বে গমনেচ্ছু ব্যক্তি
    • প্রথমবার হজ্বযাত্রী
    • মহিলা হাজী
    • বয়োজ্যেষ্ঠ হাজী
    • ইমাম ও ধর্মীয় শিক্ষক

    নিবন্ধন ও সাধারণ তথ্য: কর্মশালার সময়কাল ১ দিন (হজ্ব মৌসুমের পূর্বে) অংশগ্রহণ ফি নাই, বিনামূল্যে মূল্যে প্রশিক্ষণ মাধ্যম

    উপকরণ: হজ্ব গাইড বই ও দোয়ার কার্ড বিতরণ, স্থান: মাদরাসা প্রাঙ্গণ, ভাটি সাভার।

  • মোঃ লুৎফুর রহমান

    প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক

    জামিয়াতু লুৎফুর রহমান আল ইসলামিয়া মাদ্রসা

    নান্দাইল, ময়মনসিংহ।

    ✪✪✪✪✪✪” হজ্ব “✪✪✪✪✪✪

    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

    ★★প্রথম ধাপঃ ★★

    হজ্বের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু ও ওমরাহ

    ÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

    প্রথমেই শুরু করছি, হজ্বের উদ্দেশ্যে যাত্রা থেকেঃ

    ÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

    #১ম ধাপঃ- ওমরাহ্ –

    ~~~~~~~~~~~

    মক্কায় প্রবেশ করলেই আপনাকে ওমরাহ্ করতে হবে।–

    হজের ফ্লাইট-এর নির্দিষ্ট সময়ের ১২/১৪ ঘন্টা আগে হজ্ব ক্যাম্প এ রিপোর্ট করতে হয়। এই সময়টা বিশাল লাইন এ দাঁড়িয়ে ব্যাগ চেকিং, পেপার চেক করা, এরপর বড় ব্যাগগুলো বিমানে উঠানোর জন্য রেখে দিবে।

    ছোট হ্যান্ড ব্যাগ সহ আপনাকে বাসে করে এয়ারপোর্ট এর নিয়ে যাবে। সেখানে ইমিগ্রেশন এর কাজ শেষ করে, ফ্লাইট এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।★★[ ইমিগ্রেশন ঢাকা এয়ারপোর্ট এ হবে। গতবছর – এয়ারপোর্ট এ হয়েছে।]

     

    এই ১২/১৪ ঘন্টা সময় আপনার হ্যান্ডব্যাগ যা লাগবেঃ

    শুকনা খাবার – কেক, বিস্কিট, খেজুর, বাদাম।

    ★★ (এয়ারপোর্ট এর খাবার কেনার দোকানে যেতে পারবেন না।)

    যাদের ডায়াবেটিক আছে, অবশ্যই জরুরী ওষুধ, ইনশুলিন সাথে রাখবেন।

    পানি, স্যালাইন- (প্লেন এ বসার ৪০/৫০ মিনিট পর পানি পাবেন। তাই, ১২/১৪ ঘন্টার হিসাবে পানি সাথে নিতে পারেন।)

    মেডিসিন – ৩দিন এর জরুরী মেডিসিন (প্রেসার, ডায়াবেটিক), ইনহেলার নিজের সাথেই রাখবেন।

    ট্রাভেল পিলো (ক্লান্ত হলে যাতে চেয়ারে বসে একটু ঘুমাতে পারেন।এই পিলো আপনার ৪০ দিনের পুরো সফরে অনেক কাজে লাগবে।)

    পাতলা জায়নামাজ, তাইমুম এর মাটি

    টয়লেট পেপার (এয়ারপোর্ট এর বাথরুম এ নাও থাকতে পারে)

    গন্ধছাড়া সাবান (এহরাম অবস্থায় হাত দোয়ার জন্য)

    এক সেট কাপড় (প্রয়োজনে হলে)

    প্লেনে করে জেদ্দা এয়ারপোর্ট এ পৌছালেনঃ

    প্লেন থেকে নামার পর ইমিগ্রেশন এ কাজ শেষ করে, লাগেজ অন্য বাসে করে আপনার হোটেলে নিয়ে যাবে সেখান থেকে খুজে নিতে হবে। ( লাগেজ এ অবশ্যই আপনার নাম, পাসপোর্ট নাম্বার ও জরুরী কন্টাক্ট নাম্বার উপরে লিখে রাখবেন।) [★★ইমিগ্রেশন ঢাকা এয়ারপোর্ট এ হবে।]

    এরপর আপানকে পাঠিয়ে দিবে “হজ্ব প্লাজায়”। এখানে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে (১০মিনিট থেকে ২ঘন্টা)। বেশিও সময় লাগতে পারে।

    হজ্ব প্লাজাতে টয়লেট থাকবে; তবে টয়লেট এ টিস্যু বা হ্যান্ডওয়াস থাকবেনা।

    টয়লেট এ পানি থাকবে, তবে এটা একটি পাইপ এর মত। কল খুললে, বুঝে ঊঠার আগেই আপনি গোসল হয়ে যাবেন।তাই, সাবধান এ পানির পাইপ খুলবেন।

    নামাজ এর যায়গা থাকবে। নামাজ এর ওয়াক্ত হলে নামাজ পরে নিতে পারবেন।

    আপনার লাগেজ মোয়াল্লেম এর সাহায্যে- বাংলাদেশি সাহায্যকর্মিরা নিয়ে নিবে। এই লাগেজ আপনাকে হোটেলে পোঁছে দিবে।

    এই সময় অনেকই পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন, বা ভাষা না বুঝে অন্য দলের কাউকে পাসপোর্ট দিয়ে ফেলেন।

    শুধুমাত্র আপনার হজ্বের গাইডকেই/মোয়াল্লেমকেই পাসপোর্ট জমা দিবেন।

    আপনার দলের সাথে বাসে উঠবেন। বাস আপনাকে হোটেল এ নামিয়ে দিবে।

    হোটেলের এন্ট্রেস এ সবার লাগেজ রাখা থাকবে।আপনার ব্যাগ খুজে,নিজেকে রুমে নিয়ে রাখতে হবে।

    ক্লান্ত থাকলে খাবার খেয়ে, বিশ্রাম করর নিন।তারপর ওমরাহ এর জন্য কাবার দিকে রউনা করুন।

    দুপুরে অনেক রোদ থাকে। ” মাগরিব এর পর থেকে ফজর পর্যন্ত ” তাওয়াফ এর উত্তম সময়। তবে ওই সময়টা অনেক ভীর থাকে।

     

    ওমরাহ্ ঃ

    ~~~~~~~~~~~~~

    ধরে নিচ্ছি আপনি ওমরাহ্ এর সকল নিয়ম যানেন। তারপারও এই সময় কি লাগবে সেটা বলে দিচ্ছি।

     

    তাওয়াফ – এর সময় যা লাগবেঃ

    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

    ৭ দানার তসবি। (বাইতুল মোকারম এ পাবেন।)

    ২ ফিতার কাধের একটা ব্যাগ।(অবশ্যই নিবেন)

    মাটির ঢ্যালা- তাওয়ার এর মাঝে ওজু ভেংগে গেলে, যেনো তাড়াতাড়ি তাইমুম করতে পারেন।

    এখানে জুতা পরা যাবেনা। মহিলারা মোজা (এন্টি স্লিপ) পরতে পারেন।

    রোদ থাকলে ছাতা, সানগ্লাস নিয়ে নিবেন।

    **জুতা রাখার জন্য ব্যাগ।

    **খালি পানির বোতল- ওখানে জমজম পানি পাবেন। হোটেলে খাবার জন্য বোতল ভরে নিয়ে আসবেন। (অবশ্যই নিবেন)

    **শুকনা খাবার – খেজুর, বিস্কিট, চকলেট (অনেকেই হাটাহাটি করে ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পরেন।)

    সায়ী – সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ৭বার চক্কর দেয়াকে সায়ী বলে।

    যেখানে সায়ী করবেন, পুরো পাহার এসি করা আর সেখানে ফ্লোরটাও পাথরের। তাই, ফ্লোর এতোটাই ঠান্ডা থাকে যে খালি পায়ে হাটা একটু কষ্ট। মহিলারা এন্টিস্লিপ মোজা পরতে পারেন।

    ৭ দানার তসবি, পানির বোতল, খাবার সাথে রাখবেন।

    সকল কাজ সম্পাদন করে মাথা মুন্ডন বা চুল কেটে গোসল এর পর আপনি এহরাম মুক্ত হলেন।

     

    ✪✪✪ হজ্ব ✪✪✪
    ~~~~~~~~~~
    দ্বিতীয় ধাপঃ

    #২য় ধাপঃ সাধারন জীবনযাপন –
    ÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

    হজ্ব শুরু হয়ার আগে, মানে ৭ই যিলহজ্ব এর আগ পর্যন্ত, আপনাকে মক্কা ও মদিনাতে হোটেল এ থাকতে হবে। এই সময়টায়ঃ
    ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়া, সময় মত খাবার খাওয়া ও ফ্রি টাইম এ দল বেধে ঘুরাফেরা করা, এটাই আপনার কাজ।
    সরকারি ব্যবস্থাপনায়-নিজ খরচে গেলে ৩/৪জন একটি রুমে থাকতে হবে এবং একটি বাথরুম ব্যবহার করতে হবে। তাই, মানিয়ে নেয়ার মন মানুষীকতা থাকতে হবে। অন্যের যেনো কষ্ট /অসুবিধা না হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

    • ✪✪✪✪নামাজঃ✪✪✪✪
      ÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
      • মক্কাতে নামাজ এর জন্য সবারই একটা তাগিদ /ইচ্ছা থাকে কাবা ঘরের সামনে নামাজ পরার। কাবা ঘরের সামনে নামাজ পরতে চাইলে নামাজ এর ওয়াক্ত এর অনেক আগেই (১ঘন্টা আগে) আপনাকে হোটেল থেকে বের হতে হবে।
      •মসজিদের প্রত্যেকটি গেট এ আরবিতে ও ইংরেজিতে গেট নাম্বার লিখা থাকে।প্রবেশের সময় গেট নাম্বারটি মনে রাখুন। তবে, মসজিদ থেকে বের হতে সুবিধা হবেনা। নয়ত, ভুল পথে অন্যদিকে চলে যাবেন, তখন হোটেল পর্যন্ত আসতে অনেকটা পথ হাটতে হবে।
      • আজান পরার সাথে সাথে কিছু গেট/রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়।সবাইকে তখন বাধ্য হয়ে “কিং ফাহাদ এক্সটেনশন”( মসজিদুল হারাম এর বর্ধিত অংশ) এ গিয়ে নামাজ পরতে হয়। কখনো রাস্তাতেই নামাজ পরতে হয়। তাই, জায়নামাজ সাথে রাখুন।
      • **৭৯ নাম্বার গেট দিয়ে ঢুকে সিড়ি দিয়ে নিচে নামলেই কাবাঘরের সামনে পোঁছে যাবেন।
      • ফজর নামাজ এর একটু আগে গিয়ে, তাহাজ্জুদ নামাজ পরে নিতে পারে। ফজর নামাজ এরপর, নফল তাওয়াফ করার উপযুক্ত সময়।এই সময় আবহাওয়া সুন্দর থাকে, ভীরও কম থাকে।
      • মাগরিব এর সময় এতোই ভীর থাকে যে নামাজ বা সিজদা এর যায়গা পাওয়া যায়না।তাই আসর এর নামাজ এরপর, মসজিদ এর মধ্যেই অথবা মসজিদ এর আশে পাশে অবস্থান করতে পারেন।
      • দুই নামাজ এর মাঝখানে ফ্রি টাইমে কুরআন শরীর পরতে পারেন। ছোট কুরান শরিফ সাথে নিবেন। যেটা হজ্ব শেষে মসজিদে দান করে আসতে পারেন।
      • মক্কাতে ছেলে মেয়েদের নামাজ এর যায়গা আলাদা। ভীর দেখলে, হঠাৎ করেই এরা (সৌদিরা) দরজা/ এস্কেলেটর (চলন্ত সিড়ি) বন্ধ করে দেয়। তাই, যেদিন দিয়ে মসজিদ এ ঢুকেছেন, সেখান দিয়েই বের হতে পারবেন সেটার কোন গ্যারান্টি নেই।
      • সেজন্য, আপনার সফর সাথীর সাথে কথা বলে, আগেই একটি নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে রাখবেন।যেখানে নামাজ শেষে ২জন মিলিত হবেন।
      • মসজিদের সাহায্য কর্মী হিসেবে অনেক বাংলাদেশি ভাই পাবেন। রাস্তা না চিনলে, ভয়ের কিছু নেই। উনাদের সমস্যা বললে, সাহায্য পাবেন।
      •জুম্মার দিন মসজিদুল হারামে প্রচন্ড ভীর হয়।ভীর ও ধাক্কাধাক্কি দেখলে, সেই পথ,বিশেষ করে সেই সিড়ি এড়িয়ে চলুন। দূরে দাড়িয়ে ভীর কমবার জন্য অপেক্ষা করুন। আমার বেশ কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা আছে এই ভীরের।বিশ্বাস করুন, বেচে থাকলে, হোটেলে পোঁছাতে পারবেন ইনশাল্লাহ। তাই, তাড়াহুড়ার কিছুই নেই।
      • ** ৭৯ নাম্বার গেট এর কাছে একটি লাইব্রেরি আছে। সেখানে প্রতিদিন -আসর এরপর থেকে এশা পর্যন্ত, ২/৩ দফায় “ফ্রি খাবার এর প্যাকেট” দিয়ে থাকে সৌদি সরকারের হাদি ফান্ড।প্যাকেট এ থাকে -পনিরের রুটি,জুস, পানি, বিস্কিট, ম্যামুন (খুবই সুস্বাদু খেজুরের কুকিজ)। চেষ্টা করবেন খাবারটা নিতে।
    • এছাড়াও অনেক ধনী পরিবার নিজ উদ্দ্যগে মাগরিব থেকে এশার ওয়াক্ত এ,মসজিদের বিভিন্ন স্থানে গাওহা (আরবিও চা) হাজ্বীদের দিয়ে থাকেন, যা আপনার বিকেলের ঝিমঝিম ভাব দূর করবে।

    ✪✪✪✪ হোটেল এ অবস্থানঃ ✪✪✪✪
    ÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷

    • হোটেল এর আশে পাশে অনেক খাবার এর দোকান থাকে ,যেখানে থেকে যা ইচ্ছা কিনে এনে রুমে বসে খেতে পারেন। অথবা অখানে বসেও খেতে পারেন।
    • অনেকে রাইস কুকার নিয়ে যায়, নিজে রান্নার জন্য।বস্তুতপক্ষে, রুমের ৩/৪জন সিরিয়াল দিয়ে টয়লেট ব্যবহার করে,ঠেলাঠেলি করে লিফট উঠে, সময়মত মসজিদে পোঁছানোই একটা চ্যালেঞ্জ হয়ে যায়। সেখানে, এসব রান্নায় অহেতুক সময় নষ্টের কোন মানে নেই।

    বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসবেনঃ
    ÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷÷
    • গুড়া দুধ, চিড়া, কর্নফ্লেলক্স, চিনি (প্রতিদিন যদি হোটেলের নাস্তা খেতে ইচ্ছা না করে।)
    • জ্যাম/জেলি,নিউট্রেলা, স্প্রেড – ( এখানে ভালো মানের ব্রেড/পাউরুটি কিনতে পাওয়া যায়।)
    • লবন, সরিষার তেল, আচার, চাট মসল্লা।(দরকার মনে করলে)
    • ** ইলেকট্রিক কেটলি- আবহাওয়া পরিবর্তন কারণে হঠাৎ করেই গলা ব্যাথা, কাশি শুরু হতে পারে। তখন গরম পানির জন্য।
    • *** শুক্না আদা, লং, এলাচি, দারচিনি একটি ছোট কোউটায় করে অবশ্যই নিয়ে নেবেন।
    • দোকান থেকে ডিম কিনে ইলেকট্রিক কেটলিতে সিদ্ধ করে খেতে পারেন। স্বাদ পরিবর্তন এর জন্য।
    • টি ব্যাগ, কফি, চিনি (চা/কফি নিজেই রুমে করে নিতে পারবেন।)
    • শুকনা খাবার- বিস্কিট, চানাচুর, চকলেট ,বাদাম, ম্যাংগোবার ।( ৩বেলা খাবারের বাইরে ক্ষুদা লাগলে অথবা লম্বা পথ যাত্রার জন্য।)
    • প্লাস্টিক এর প্লেট- আজকাল রেস্তোরাতে খাবার কিনে রুমে আনলে, সাথে ওয়ান টাইম প্লেট দিয়ে দেয়। তারপরও আপনি নিজেরটা নিতে পারেন।
    • মগ (চা/পানি খাবার জন্য), ছুরি (ফল কাটার জন্য),
    • *** হ্যাংগার – কাপড় মেলবার জন্য। সবাই দড়ি নিতে বলে। কিন্তু, হোটেলের রুমের মধ্যে দড়ি বাধার যায়গা পাবেন না।
    • *** কাপড়ের ক্লিপ- হোটেলের ছাদে যদি কাপড় মেলার সুযোগ থাকে।
    • কাপড় কাচার সাবান ও ডিটারজেন্ট।
    • সাবান, শ্যাম্পু, টয়লেট পেপার – হোটেলের থেকে অল্পকিছু দিবে।তাই, নিজেরটা নেওয়াই ভালো।
    • লোশন, তেল,চিরুনী, অন্যান্য যা আপনার লাগে।
    • ** অলিভ ওয়েল, ভেসলিন -(পায়ে ও নাকে ব্যবহার করতে হবে।।শুক্না ও প্রচণ্ড গরমের কারনে পা ফেটে যায়, নাক থেকেও রক্ত পরে। তাই,অবশ্যই নিবেন।)
    • **মোবাইল চার্জার, হ্যাডফোন,তিনপিনের সকেট ( হোটেলের সুইচবোর্ডে তিন পিনের প্লাগ লাগবে।),পাওয়ার ব্যাংক। (সবকিছু অবশ্যই নিবেন)
    • ** সুই সুতা, সেফটিপিন,কেচি। (সবকিছু অবশ্যই নিবেন।)
    • ** ডায়রী, কলম, কুরান শরিফ, দোয়ার বই,জায়নামাজ ।(সবকিছু অবশ্যই নিবেন।)
    • **ছাতা, ক্যাপ(লম্বা সময় ছাতা ধরে রাখতে কষ্ট হলে।),মাস্ক।( সবকিছু অবশ্যই নিবেন।)

     

     

    ★★ ৩য় ধাপ (মূল হজ্ব)ঃ –

    ## ২য় পর্বঃ- হজ্বের ফরজ, ওয়াজিব ও দিনের হিসাবঃ

    ————————————————————————–

    হজ্ব হতে হবে, রাসূল (সাঃ) ও সাহাবীদের মত। যার বর্ণনা বিভিন্ন হাদীসের বইগুলোতে ধারাবাহিক ভাবে, তারিখ ও সময়সহ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। অন্যকারো ফতোয়া মত হজ্ব কবুল হবেনা। আফসোস হয় তাদের জন্য, যারা এতোগুলো টাকা দিয়ে হজ্ব করতে যাচ্ছেন, অথচ হজ্বের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন না।

     

    নিচে হজ্বের ফরজ ও ওয়াজিব গুলো দেয়া হলোঃ

    ✪✪ হজ্বে তামাত্তু ফরজ ✪✪

    ++++++++++++++++++++++++

    ১। ইহরাম করাঃ ইহরাম বেধে হজ্বের নিয়ত করা/স্বীকৃতি দেয়া এবং তালবিয়া পড়া।

    ২। আরাফায় অবস্থান করাঃ ৯ই যিলহজ্ব আরাফায় অবস্থান।

    ৩। তাওয়াফুল ইফাদাহঃ হজ্বের পর ফরজ তাওয়াফ ও সায়ী করা।

    ★★ ফরজ কাজগুলো “ধারাবাহিক ভাবে”, “নির্দিষ্ট স্থানে” ও “অনুমোদিত সময়ের” মধ্যে করতে হবে।

    ★★ কোন একটি ফরজ বাদ গেলে (ইচ্ছাকৃত /অনিচ্ছাকৃত) হজ্ব সম্পন্ন হবেনা। হজ্ব বাতিল হবে। দম দিয়ে লাভ হবে না।

     

    ✪✪ হজ্বে তামাত্তু ওয়াজিব ✪✪

    ++++++++++++++++++++++++++++

    ১। মিকাত থেকে ইহরাম করা।হাজ্বীদের জন্য তার হোটেলের রুমই মিকাত হিসেবে গন্য হবে।

    ২। “৯ই যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত” আরাফায় অবস্থান করা।

    ৩। “১০ই যিলহজ্ব” (৯ই যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পর) মুজদালিফায় রাত্রি যাপন।

    ৪। নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট জামারাতে কংকর নিক্ষেপ করা।

    ৫। হাদী/ পশু জবেহ করা।

    ৬। হলক্ব করা- চুল ছোট/মুন্ডন করে ইহরাম মুক্ত হয়া।

    ৭। তাশরীকের রাত গুলোতে মিনায় অবস্থা করা।

    ৮। তাওয়াফে বিদায় করা- হজ্ব শেষে মক্কা ত্যাগের পূর্বে বিদাই তাওয়াফ করা।

    ★★ কোন একটি ওয়াজিব বাদ গেলে (ইচ্ছাকৃত /অনিচ্ছাকৃত) হজ্ব বাতিল হবেনা। কাফফারা হিসেবে দম দিতে হবে। দম দেয়ার পাশাপাশি, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া বাঞ্ছনীয়।

    ★ হজ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ন সুন্নত আছে।যেগুলো ইচ্ছাকৃত বাদ দেয়া উচিৎ না। তবে এগুলো বাদ পরে গেলে কোন অসুবিধা নেই।

    ✪✪ হজ্বের দিন ও রাতের হিসাব ✪✪

    ============================

    ➤ আমার মত অনেকেই হজ্বের দিনগুলো (৮, ৯, ১০ ই যিলহজ্ব) হিসাব করতে গিয়ে ইংরেজি ক্যালেন্ডার এর দিন-রাত এর সাথে হিজরী ক্যালেন্ডার এর দিন রাত্রি মিলিয়ে ফেলেন। তাই রি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরী।

    ➤** ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ঘড়িতে রাত ১২টা বাজলে পরের দিন শুরু হয়।

    ➤** কিন্তু, হিজরী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর থেকে নতুন দিনের হিসাব শুরু হয়। অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায়- প্রথম ১২ ঘন্টা রাত্রি ও পরের ১২ ঘন্টা দিন।

     

    ★ ৩য় ধাপ (মূল হজ্ব): – ৩য় পর্ব –

    হজ্বের ধারাবাহিক আনুষ্ঠানিকতা-তৃতীয় দিনঃ

    জরুরীঃ

    ★ একটি ডায়রীতে হজ্বের ১ম,২য় ও ৩য় দিনের ধারাবাহিক কাজ নিজের মত, নোট করে রাখুন।

    ★ আমার লিখায়, যে কথাটি জরুর মনে হচ্ছে সেগুলোও লিখে রাখুন।

    ★★ হজ্বের দিনগুলোতে এই ডায়রী দিনের শুরুতে একবার দেখে নিলেই, আপনার মনে আসবে, আজকে আপনাকে কি কাজ করতে হবে।

    ★★ ওগুলো প্রিন্ট করে সাথেই রাখুন। ইনশাল্লাহ কাজে দিবে।

     

    ★৩য় ধাপ (মূল হজ্ব)ঃ – ২য় দিন

    ==================

    ৯ই যিলহজ্ব( আরাফা + মুজদালিফা)

     

    যাত্রাঃ

    ~~~~~~~

    ✪ ৮ই যিলহজ্ব শেষ রাতের দিকে, মিনার তাবু থেকে সকল হাজ্বীকে বাসে করে “আরাফায়” নিয়ে যাওয়া হবে।

    ✪ ৯ই যিলহজ্ব (১দিনের জন্য) আরাফা ও মুজদালিফায় থাকতে হবে।

    ✪ ১০ই যিলহজ্ব সকালে আবার মিনায় ফেরত আসতে হবে।

    সাথে কি নিবোঃ

    ~~~~~~~~~~

    ছোট একটি কাধের ব্যাগ এ ১ দিনের প্রয়োজনীয় জিনিশগুলো নিয়ে নিন। বাকি জিনিশপত্র (ট্রলি ব্যাগ) মিনার তাবুতে, আপনার বিছানার পাশে রেখে দিন।

    ছাতা,সানগ্লাস, ক্যাপ,

    **পাওয়ার ব্যাংক-চার্জ পয়েন্ট খালি পাবেন না।

    চার্জার,

    ** হ্যাডফোন – ভিডিও কলে আপনি যখন পরিবারের সাথে কথা বলেন, পাশের লোকজনের সেটায় ডিটার্ব হয়।

    পুরানো মোটা বিছানার চাদর- নামাজ পরার জন্য এবং “মুজদালিফায়” রাতে শুবার জন্য । ওজন বেশি হলে সেটা ওইখানেই ফেলে আসবেন।

    ট্রাভেল পিলো/ যেকোন বালিশ

    গন্ধছাড়া সাবান -টয়লেট এর জন্য।

    নিমের ডাল- মিসওয়াক এর জন্য।

    দোয়ার বই

    ছোট রুমাল – মুখ মোছার জন্য

    টিস্যু ও টয়লেট পেপার।

    অয়েট টিসু (ভিজা টিসু)

    সব ওষুধ, বিশেষ করে ব্যাথার জন্য ওষূধ। স্যালাইন।

    ছোট বোতল/পলিথিনের ব্যাগ – পাথর ঊঠানোর জন্য।

    ✘ কাপড়, সেন্ডেল নেয়ার কোন দরকার নেই।

    NOTE:

    ~~~~~~~

    এই ব্যাগ নিয়ে পরের দিন (১০ই যিলহজ্ব) আপনাকে অনেক হাটতে হবে। যত ওজন নিবেন, আপনার কষ্ট বাড়বে।

    বাস দেয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারোনে সৌদি এজেন্ট কথা রাখেন না। যাত্রীর তুলোনায় বাস কম থাকে।

    কখনো কখনো আরাফা থেকে মুজদালিফা পায়ে হেটে যেতে হবে পারে।

    ১০ই যিলহজ্ব মুজদালিফা থেকে মিনায় (ফজরের পর থেকে) বাস ঢোকা বন্ধ থাকে।তাই, সবাইকে পায়ে হেটেই মিনায় আসতে হবে।

    আরাফায় করনীয়ঃ

    ~~~~~~~~~~~~~

    ১। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত “আরাফা” এ অবস্থান।

    ২। যোহরের আউয়াল ওয়াক্তেই এক আযানে ও দুই ইকামাতে যথাক্রমে যোহর (২ রাকাত ফরজ) ও আসর (২ রাকাত ফরজ) কসর করে পর পর আদায় করা।সহি বুখারী ১৫৫৯

    ✘ এই দুই স্বলাতের আগে মধ্যে ও পরে কোন সুন্নাত / নফল স্বলাত পড়া যাবেনা । বুখারী-১৬৬২, আবু দাউদ-১৯১৩।

    এই নামাজ মসজিদে নামিরাতে ইমামের পিছনে জামাআতে আদায় করা উত্তম। তবে মসজিদে এতো মানুষ অবস্থান সম্ভব নয়।তাই, আরাফার ময়দানে যেকোন স্থানে/তাবুতে স্বলাত আদায় করা যাবে।

    তাবুর পাশে, রাস্তায় মাইক থাকে। আমরা অনেকে রাস্তায়, মাইকে শুনে ইমামের সাথে জামাতে পরেছিলাম।

    ৩। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে গেলে (যোহর- আসর স্বলাত এর পর) কিবলার দিকে মুখ করে দুই হাত সামনে উঁচু করে আল্লাহর কাছে দু’আ করুন, ক্ষমা চান, দয়া কামনা করুন। এই দু’আ করার জন্যই আপনার আরাফায় আসা। আপনার মনের আশা আল্লাহকে বলুন। দরুদ, তালবিয়াহ, যিকর, ইস্তিগফার করুন।

    ✘জোরে শব্দ করে, আওয়াজ করে, দলবদ্ধ ভাবে দুয়া, মুনাজাত করা সুন্নত এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে অন্যের মনযোগ নষ্ট হয়।

    ✘ আরাফার দিনে রোজা হাজ্বীদের জন্য নয়। বরং যারা হজ্বে আসেন নি তাদের জন্য। ।হাজীদের জন্য আরাফার দিবসের রোজা রাখা মাখরুহ। রসুলুল্লাহ (সাঃ) আরাফার দিনে রোজা রাখেননি। বুখারী-১৬৫৮,১৬৬১।

    ৯ই যিলহজ্ব আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা ওয়াজিব।

    প্রত্যেক হাজ্বীকে স্বশরীরে অবস্থান করতে হবে।

    ৪। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের স্বলাত আদায় না(✘) করে, মুজদালিফার উদ্দেশ্যে, আরাফার ময়দান ত্যাগ করা।

     

    আরাফ-এ তাবুঃ

    ~~~~~~~~~~~~~

    ১। আরাফাএ তাবু গুলো অস্থায়ী। এসি থাকবে।

    ২।একটা তাবুতে ২০০/২৫০ জন থাকার ব্যবস্থা।

    ৩।তাবুর ভিতরে মাটিতে পাতলা ম্যাট বিছানো থাকবে।

    ৪।অল্প কিছু পাতলা ফোমের বিছানা ও ফোমের বালিশ থাকবে। আপনি আগে গেলে বিছানা পাবেন। নাও পেতে পারেন।

    ৫। এখনে তাবুগুলো দেখতে সব একি রকম। তাবু থেকে বের হয়ার আগে, আশেপাশের গাছ, জিনিশ দিয়ে নিজের তাবুর চিনে রাখুন। নয়তো হারিয়ে যাবেন।

     

     

    আরাফায় কি কি পাবেনঃ

    ~~~~~~~~~~~~~~~~

    ট্রাকে করে প্রচুর খাবার দেয়। (মসদিজের সামনে রাস্তায়)। দলের পুরুষরা সেগুলো collect করে তাবুতে দিয়ে গেলে সেগুলো পাবেন।

    এছাড়া ২ বেলার খাবার (সকালের নাস্তা ও দুপুরে, (ভাত), ফল পাবেন – আনলিমিটেড চা পাবেন।

    সেইদিন রাতেই মুজদালিফায় চলে যাবেন। তাই, আরাফায় রাতে কোন খাবার দেয়া হবেনা। তবে সারাদিনই কিছুনা কিছূ প্যাকেট করা রুটি, বিস্কিট,পানি,জুস দেয়া হবে। অগুলো রাতের জন্য সংগ্রহ করে রাখুন।

    • খাবার পানির বোতল দেয়া হবে।
    • হুট করেই খাবার পানির সংকট হতে পারে। পানি সংগ্রহে রাখুন।

    ✘খাবার পানি দিয়ে ওযু করবেন না।

     

    আরাফায় টয়লেট কেমন হবেঃ

    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

    ২০২৪ সালে নতুন কিছু টয়লেট তৈরী করা হয়েছে।

    টয়লেট ১০০ টার মত। যা ২০০০/৩০০০ মহিলাদের জন পর্যাপ্ত না।

    প্রচুর লম্বা সিরিয়াল থাকে।

    সাবান,টয়লেট পেপার পাবেন না।

    মুজদালিফায় করণীয়ঃ

    ~~~~~~~~~~~~~~~~

    ১। মুজদালিফায় পৌছে প্রথম কাজ হলো,

    এশার স্বলাত এর ওয়াক্তে — মাগরিব (৩ রাকাত) ও এশার (২রাকাত) ফরজ স্বলাত কসর করে একটির পর একটি পরা।

    এই স্বলাত এর মাঝে কোন স্বলাত নেই। এশার স্বলাত এর পর ১/৩ রাকাত বিতর হবে। বুখারী- ১৬৭৩,১৬৮৩

    ২। পরের ৩ /৪ দিনের জন্য পাথর সংগ্রহ করা। মুজদালিফায় পুরো ময়দান এ ছোলার দানার মত ছোট ছোট পাথর আছে। সাথে আনা বোতল /পলিথিনের ব্যাগ-এ গুনে গুনে পাথর নিন।

    ৩দিন থাকলে –৪৯টি (৭ + ২১x২),

    ৪দিন থাকলে — ৭০টি (৭+২১x৩)

    কিছু পাথর বেশি নিন,যদি পাথর পরে /হারিয়ে যায় তাই।

    ✘ বড় পাথর নেয়া মাখরুহ। নেয়া যাবেনা।

    ৩। আজকের দিনের মত কাজ শেষ। খোলা আকাশের নিচে ‘মুজদালিফা’ এ রাত্রি যাপন।

    মুজদালিফায় রাত্রি যাপন ওয়াজিব।

    অনেকে না ঘুমিয়ে দুয়া/ দরুদ পরেন, গল্প করে রাত কাটান।কিন্তু নবীর সুন্নাত হচ্ছে ঘুমিয়ে বিশ্রাম করা।

    আগামী দিন (১০ই যিলহজ্ব ) অনেকগুলো কাজ করতে হবে।অনেক হাটতে হবে। তাই, যতক্ষন পারেন ঘুমানোর চেস্টা করুন।

    মুজদালিফায় কি কি পাবেনঃ

    ~~~~~~~~~~~~~~~~~

    কোন তাবু থাকবেনা।

    বালির মধ্যেই আপনার চাদর বিছিয়ে শুতে হবে।

    প্রথম পোস্ট থেকেই যে ট্রাভেল পিলো আনতে বলেছিলাম।ওইটা আপনার এখন সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে।

    টয়লেট এর কাছাকাছি সুবিধাজনক যায়গায় আপনার শোবার বিছানা করুন।

    হাটার রাস্তায় শুতে যাবেন না।মানুষজন গায়ে পারা দিবে।

    আপনার মাহরামের ও দলের সাথেই থাকুন। দল এর থেকে অনেক দূরে বিছানা করবেন না।

    সকালে এই দলের সাথেই আপনাকে হেটে মিনা যেতে হবে। আপনাকে খুজে না পেলে, সকলের যাত্রা দেরি হবে। অনেক সময়, আপনাকে রেখেই দল চলে যেতে পারে।

    কোন খাবার বা পানি দেয়া হবেনা।

    আরাফাতে যে প্যাকেট খাবার ও ফল সংগ্রহ করতে বলেছিলাম ওগুলো খেয়ে রাত কাটান।

    আশেপাশে কোন দোকান নেই।

    কিছুদূর পর পর টয়লেট বিল্ডিং। টয়লেট গুলো নতুন ও পরিষ্কার।

     

    ৩য় দিন – ১০ই যিলহজ্ব

    ~~~~~~~~~~~~~~~~~~

    একটু সময় নিয়ে, মনে করে, আসতে আসতে লিখছি। অনেক কথাই মাথায় আসছে, কিন্তু শুধু খুব জরুরী কথাগুলোই এখানে লিখবো। আগের ২টি পোস্ট এ বলেছি, হজ্বের ১ম দিন ও ২য় দিনের কথা।২য় দিন (৯ই যিলহজ্ব) মুজদালিফায় সকল হাজ্বীরা রাত কাটিয়েছিলেন। তারপরের দিন মানে, ১০ই যিলহজ্ব– সৌদিতে আজ ঈদের দিন। কিন্তু হাজ্বীরা কেউই আজকে, **ঈদের স্বলাত পরবেন না**।

    দিনটাকে আজকে খুবই ছোট মনে হবে আপনার কাছে। কারণ, আজকে দিনের অনেকগুলো কাজ। আর সেই কাজ গুলো করতে হবে আলাদা আলাদা যায়গায়। ছোট একটি লিস্ট দিচ্ছি আজকের কাজেরঃ

    ১০ই যিলহজ্ব করনীয় কাজগুলোঃ

    ➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤

    মুজদালিফাঃ

    ফজরের আজানের পর, স্বলাত আদায়। হজ্বের সকল স্বলাত কসর হলেও, ফজরের স্বলাত ২রাকাত সুন্নতসহ পরতে হবে।

    তারপর, সূর্য উদয়ের আগেই মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা এবং মুজদালিফার সীমানা ত্যাগ । (★ বুখারী -১৬৮৪,আবু দাউদ -১৯৩৮,তিরমযি-৮৯৬)

    মিনাঃ

    বড় জামারায়(জামারাতুম আকাবা) নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে(দ্বিপ্রহর) – ৭টি কংকর নিক্ষেপ (★ ওয়াজিব, নাসাঈ-৩০৬৫)।

    ➤ দ্বি-প্রহরের পূর্বে কংকর নিক্ষেপ সুন্নত ও উত্তম। *বিশেষ কারণে(মহিলা,বৃদ্ধ,অসুস্থ) দেরি হলে কোন সমস্যা নেই।( বুখারী -১৭৩৫, নাসাঈ-৩০৬৩)

    মক্কাঃ

    হাদি জবেহ করা (★  ওয়াজিব) (সুরা আল-বাকারা-২ঃ১৯৬)

    হাদী হয়েছে কিনা নিশ্চিত হয়ে, হলক্ব (মুন্ডন)/কসর (ছেঁটে ফেলা) করা। (★ ওয়াজিব। আবু দাউদ-১৯৮০)

    ইহরাম এর কাপড় খুলে, হালাল হওয়া। (★ ওয়াজিব,নাসাঈ-৩০৮৪ )।

    তাওয়াফুল ইফাদাহ (তাওয়াফুল যিয়ারাহও বলে) (★  ফরজ)

    সাঈ করা (★  ফরজ। বুখারী-১৬৪৩)

    যত দ্রুত সম্ভব রাতের মধ্যেই, মিনার তাবুতে ফিরে এসে অবস্থান (★  ওয়াজিব)।– সকল স্বলাত আউয়াল ওয়াক্ত এ **কসর করে পরা**।

    • ১০ই যিলহজ্ব এর কাজগুলো ধারাবাহিক ভাবে সম্পন্ন করা সুন্নাত।

    যেমনঃ

    ১।কংকর৷ → ২।হাদী → ৩।কসর/হলক্ব/ইহরাম মুক্ত → ৪।তাওয়াফে যিয়ারা ও সাঈ।(★  আবু দাউদ-১৯৪৫,তিরমিযী-৯৫৮)

     

    কিন্তু কেউ যদি কোন কারনে *✪ভুল বসত* ধারাবাহিতা ভংগ করেন; কোনটা আগে কোনটা পরে করে ফেলেন তবে কোন সমস্যা নেই। (★ বুখারী -১৭২২,১৭৩৬, মুসলিম-৩০৪৭, আবু দাউদ-১৯৮৩, তিরমিযী-৯১৬, ইবনে মাজাহ- ৩০৪৯)

    উপরে যে ধারাবাহিক কাজগুলো বললাম,তার মানে হচ্ছে আপনাকে যেতে হবেঃ

    সূর্য উদোয়ের আগে ➤ মুজদালিফা →→ মিনা

    দুপুরের মধ্যে ➤ মিনা →→ মক্কা

    রাতের মধ্যে ➤ মক্কা →→ মিনা

    মজার বেপার হচ্ছে, এই ৩টা যায়গা আপনাকে যেতে হবে পায়ে হেটে। ভাগ্য ভালো থাকলে ** মিনা থেকে মক্কা যাবার পথে টেক্সি পাবেন। কিন্তু সেই টেক্সি আপনাকে খুবই অল্প পথ এগিয়ে দিবে। আর তাছাড়া তাওয়াফ ও সায়ী আপনাকে যেহেতু নিজে হেটেই করতে হবে। তাই, সেই ভাবেই ১০/১৫কিমি হাটার মানুষীক প্রস্তুতি নিন।

    (২০২৪ সালে আমরা যখন যাই, মেট্রোরেল ব্যবহার করার ফি দিয়ে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি,এবং ইন্ডিয়ান হাজ্বীদের মেট্রোরেল ব্যবহার করতে পারবেন।)

    ✪ যারা বয়স্ক মা/বাবা নিয়ে যাবেন, তারা অবশ্যই আজকের জন্য হুইল চেয়ার নিবেন (আরাফায় জাবার পথেই হুইল চেয়ার নিয়ে নিবেন)।

    এখানে কিছু কাজ আছে, যেমনঃ হাদি, তাওয়াফ এগুলো ইচ্ছা করলে ১০তারিখ না করে ১১ই / ১২ই যিলহজ্ব এ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা যাবে। তবে, ১০ই যিলহজ্ব করা সুন্নত।

     

     

    ১০ই যিলহজ্ব – ৩য় দিনের বিস্তারিত

    ➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤➤

    আমি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিজ খরচে হজ্বে গিয়েছিলাম।সেটার অভিজ্ঞতার আলোকে লিখছি।

    মুজদালিফা থেকে মিনায় আসা

    ******************************

    মুজদালিফায় বাসঃ

    ✪  মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবার জন্য বাস দেয়ার কথা থাকলেও, বিভিন্ন তালবাহানায় বাস আপনাকে নিতে নাও আসতে পারে।

    ✪  আর এখানে সময় এর একটা বিষয় আছে। সূর্যোদয়(sunraise) এর আগেই মুজদালিফার সীমানা ত্যাগ করতে হবে।তাই, অনেকে বাস এর জন্য অপেক্ষা না করে হেটে রউনা করেন।

    ✪  বাস পেলেও, সেই বাস আপনাকে মিনার তাবু পর্যন্ত নিয়ে যাবেনা। বস্তুতো, অনেক মানুষ বড় রাস্তায় হাটতে থাকে, তাই সৌদি গার্ডরা বাস তাবুর দিকের ছোট রাস্তায় যেতে দেয়না।

    হেটে মিনায় আসাঃ

    ****************

    এই এখন থেকে আপনার আজকের দিনের হাটা শুরু হলো। ★  ধৈর্য ধরুন। ★  ১০/১৫ কিমি হাটার মানুষীক প্রস্তুতি নিন।       ★  আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ★  তালবিয়া পরতে পরতে মিনার দিকে হাটতে থাকুন।

    ✪ স্ত্রী,বাচ্চা,মা সহ যদি খুব তাড়াতাড়িও হাটেন; মুজদালিফা থেকে মিনা আনুমানিক ২ঘন্টার বেশি সময় লাগবে। এটা নির্ভর করবে,আপনি মিনার সীমানা থেকে কতটুকু দূরে অবস্থান করেছেন।

    ✪  স্বাভাবিক ভাবেই, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ একটু আস্তে হাটতে পারেন। তাই, দেখা যায়, যে পুরুষরা একা হজ্বে এসেছেন বা যাদের সাথে বয়স্ক মা-বাবা,স্ত্রী-বাচ্চা নেই; তারা দলের বাকিদের জন্য অপেক্ষা না করেই তাড়াতাড়ি হাটতে থাকেন।

    • এতে করে, মহিলা ও বয়স্ক মানুষসহ,পুরুষরা মূলদল থেকে আলাদা হয়ে যান। নিজে পথ খুজে না পাওয়ার ভয় করেন। ভাবেন হারিয়ে গিয়েছেন। ( ★ সম্পূর্ন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। সবার একই অভিজ্ঞতা নাও হতে পারে।)
    • এই অবস্থায় ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আপনার আশেপাশের সবাই একই দিকেই (মিনার) যাচ্ছে। আল্লাহর উপর **পূর্ন ভরসা রাখুন, পথ হারাবেন না ইনশাল্লাহ।

     

    মহিলাদের জন্য কিছু টিপ্সঃ

    **************************

    ✘ বাংলাদেশি মহিলারা হাতের পাশে ঝুলানো ব্যাগ/ভেনিটিব্যাগ/পার্টস ব্যবহারে অভ্যস্ত। কিন্তু টানাটানিতে এই ব্যাগ সবার প্রথম ছিড়ে যায়। একপাশে,কাধে ঝোলানো ব্যগ নিবেননা।

    পিঠের ছোট ব্যাগ(স্কুল ব্যাগ) বুকের সামনে দিয়ে পড়ুন যেনো সামনের পুরুষের ধাক্কা আপনার গায়ে না লাগে।

    বয়স্ক মহিলাদের কে ভারি কাধের ব্যাগ না দিয়ে ট্রলি ব্যাগ দিন।

    বোরকা /জামা যাই পড়েন খেয়াল রাখবেন যেনো অতিরিক্ত ঝুলানো না হয়।পাশের মানুষের ব্যাগের চেইনে আপনার কাপড় আটকে, বড় বিপদ হতে পারে।হোচট খেয়ে পরতে পারেন।

    ২ফিতার সেন্ডেল ভুলেও পরবেন না।মানুষ পায়ে পারা দিতে পারে।সেন্ডেল ছিড়তে পারে।

    এই সময় শুধু বাংলাদেশী না, বিভিন্ন দেশের মানুষ থাকে, যারা আপনাকে ধাক্কা দিয়ে সামনে যেতে চাইবে। নিজে সরে গিয়ে,তাদেরকে সামনে যেতে দিন।

    বেচে থাকলে হজ্ব শেষ করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।

    কোন অবস্থায় আপনার মাহরাম এর হাত ছাড়বেন না। এই সময় হারিয়ে যেতে পারেন। দরকার হলে, আপনার মাহরাম এর কাধের বেগে ধরে, তার পিছনে থাকুন।

     

     

     

    অবশেষে মিনায় পৌছালেনঃ

    *****************************

    হাটতে হাটতে এক সময় দেখবেন, টানেলের মত বড় রাস্তা আর নিচে অনেকগুলো তাবু।দেখলেই বুঝবেন, মিনায় পৌছে গেছেন। এই টানেলের মত রাস্তায় একমুখি চলাচল। এটা সরাসরি যামারা বিল্ডিং এ গিয়ে মিলেছে।

    এখন আপনি চাইলে, সরাসরি “মিনার যামারায় ” যেতে পারেন। অথবা, মিনার তাবুতে এসে ফ্রেস হয়ে,নাশতা খেয়ে তারপর যামারায় পাথর মারতে যেতে পারেন। এখানে বলে রাখা ভালো, এই দীর্ঘ হাটার পথে টয়লেট চোখে পরেনি। গতকাল/আগেরদিন যদি কিছু খাবার সংগ্রহ করে রাখেন সেটাই খেতে হবে। পথের ২পাশেই গার্ড।তারা আপনাকে তাবুর পথে যেতে দিবেনা। সোজা যামারাত এর দিকে পথ দেখাবে।

    আমরা তাবুতে এলাম। যেহেতু আমাদের সাথে আমার শাশুড়ীমা (বয়স্ক মানুষ) আছেন; তাই, আমার পরিবারের ৩জন আগে তাবুতে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। কিন্তু আমরাতো পথ চিনিনা! কি করবো! আমাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসলেন আমাদের দলেরই ২জন। মূল দলের বাকি সবাই যামারায় পাথর মারতে সোজা রাস্তায় চলে গেলো। আর আমরা ৫ জন দল থেকে আলাদা হয়ে তাবুর দিকে রউনা করলাম।

    প্রচুর মানুষ যামারার দিকে যাচ্ছে, তাই তাবুর দিকে যাওয়ার সব পথ সৌদিগার্ড বন্ধ করে রেখেছিলো। গুগোল ম্যাপে দেখে,গার্ডকে জিজ্ঞেস করে আমাদের মক্তব এ পৌছাতে সময় লেগেছিলো প্রায় ৩ ঘন্টা।আমরা যখন তাবুতে এসে পৌছাই তখন প্রায় সকাল ৮.৩০টা বাজে। সময়টা এতো অস্থিরতায় চলে গেছে যে, ঘড়ি দেখার কথা মনে নেই। আগেরদিন (আরাফায়) দুপুরের পর আর কিছুই তেমন খাওয়া হয়নি। তাই,সবাই খুব ক্ষুদার্থ ছিলাম। ফ্রেস হয়ে, নাস্তা খেয়ে আমরা যখন যামারাতর দিকে রউনা করলাম,তখন প্রায় সকাল ১০.৩০। অনেকদূর হাটার পর যামারাত বিল্ডিং এর সামনে পৌছালাম। এখন বড় যামারাত এ পাথর মারতে হবে।

     

     

    যামারাত এর কিছু জরুরী তথ্যঃ

    *****************************

    ★  যামারাত একটি বহুতল বিল্ডিং এটার ঢুকার আর বের হয়ার পথ একমুখি(ONEWAY) । যেটায় মিনা থেকে ঢুকতে হয়। আর বের হয়ার পথ মক্কায়।

    ★  একটু পরপর,কিছু গার্ড থাকবে, তারাই আপনাকে পথ দেখিয়ে দিবে। ভীর বেশি হলে, গার্ডরা আপনাকে দোতলা/তিনতলায় উঠার পথ দেখাবে।

    ★  নীচ তলা দিয়ে গেলে একটু কম হাটতে হয়।

    ★  যামারাত বিল্ডিং ঢুকলে প্রথম ছোট যামারাহ, এরপর মধ্যম যামারাহ, সবার শেষে বড় যামারাহ।

    ★  যামারায় পাথর মেরে সোজা পথে (ডানে/বামে মিনায় যাবার পথ আছে) সামনে হাটতে থাকলে,মক্কার যাবার পথ পাবেন।

    ★এখানে হুট করেই প্রচন্ড ভীড় হয়; আবার, ৫মিনিট পরেই ফাকা হয়ে যায়।তাই ভীড়ের মধ্যে কখনই কংকর মারতে সামনে যাবেন না।কিছু অমানুষ আছে,যারা অকারনে কিল/ঘুসি দিয়ে আপনাকে জখম করবে, শুধু সামনে এগোবার জন্য।

    ★ বয়স্ক মা-বাবা সংগে থাকলে অবশ্যই উনাদের হুইল চেয়ার করে নিবেন। সামনে কতক্ষন হাটতে হবে, আপনি তা যানেন না। হুইল চেয়ার নিজেকেই ঠেলতে হবে।

    ★  যামারাত বিল্ডিং থেকে বের হয়ে মুল রাস্তায় আসলে, ভাগ্য ভালো থাকলে টেক্সি পেয়ে যাবেন। দূরত্ব কম হলেও,টেক্সি ৩০০/৪০০ রিয়াল ভাড়া চাইবে। ৪জন উঠা যাবে।

    ★ কিছু ফ্রি বাস আছে,যেটা মিনা থেকে মাসজিদুল হারাম এ গিয়ে নামিয়ে দেয়। বাস স্টপ,রুট,সময়- ইন্টারনেট থেকে যেনে নিবেন।

     

     

    যামারাহ এ পাথর নিক্ষেপ এর নিয়মঃ

    *****************************

    আজকে (১০ই যিলহজ্ব) বড় যামারাহ-এ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে(দ্বিপ্রহর) কংকর মারতে হবে। সময়ের মধ্যে কংকর মারতে ব্যার্থ হলে দম দিতে হবে।(নাসাঈ-৩০৬৫)

    বড় যামারাত এর সামনে আসলেই **তালবিয়া পরা বন্ধ করতে হবে। ( ★  বুখারী ১৬৮৫,মুসলিম -২৯৭৮)

    বড় যামারাতে আজকে ৭টি কংকর মারতে হবে।

    প্রত্যেকটি কংকর আলাদা আলাদা করে মারতে হবে।

    প্রত্যেকটি কংকর মারার শুরুতে আলাদা ভাবে বলতে হবেঃ ” আল্লাহু আকবর “। ( বুখারী ১৭৫০,মুসলিম ৩০২২,নাসাঈ ৩০৫৪)

    যদি কোন কংকর বেসিনের মধ্যে না পরে,তবে তার পরিবর্তে আবার একটি কংকর মারতে হবে।

    কংকর এর সাইজ ছোলা বুটের দানার মত হতে হবে।

     

    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

     

    মিনা থেকে মক্কায় আসা:

    *********************

    ২০২৪ সালে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যে হাজ্বীরা গিয়েছিলেন, তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী বা ট্রাভেল এজেন্সী কর্তৃপক্ষ এর মেট্রোরেল এর ব্যবহার করতে পারবেন।

    মিনা থেকে মক্কা আসার জন্য কোন সরকারি হাজ্বী বাস সুবিধা পাইনি। সবাই নিজ ব্যবস্থায় এসেছিলেন।

    মক্কায় পৌছালামঃ

     

    ********************

    টেক্সি নিয়ে, আমরা মক্কায় যখন পৌছালাম, তখন জুম্মার আজান দিচ্ছে। সেদিন ছিলো শুক্রবার। টেক্সিতে ২০/২৫ মিনিট ছিলাম। সময়গুলো বলছি, যেনো আপনি হিসাব করতে পারেন কতক্ষণ সময় আপনার লাগবে। আজিজিয়ায় বড় একটা ফ্লাইওভার আছে (যেটাকে সবাই ব্রীজ বলে), সেখানে টেক্সি নামিয়ে দিলো।সেখান থেকে হেটে হোটেলে এসে যখন পোঁছালাম তখন দুপুর ১টা।

    হোটেলে পৌছে, আমাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে, ইহরাম মুক্ত হয়া। আমরা “হাদির টাকা” আগেই ব্যাংকে জমা করেছিলাম, মেসেজও পেলাম। এখন, চুল কেটে, গোসল করে,পরিষ্কার কাপড় পরে প্রস্তুত হলাম তাওয়াফ ও সায়ীর জন্য। যত তাড়াতাড়ি শেষ করব, তত তাড়াতাড়ি মিনায় ফিরতে পারব।

     

    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

     

     

    হাদী :

    **********************

    • বেশিরভাগ হাজ্বীর নিজের হাতে কুরবানী করার সুযোগ থাকেনা। সেক্ষেত্রে ব্যাংকে টাকা দিয়ে থাকলে,আপনার পক্ষ থেকে সৌদি সরকার হাদী জবেহ করবেন।
    • ✪ সৌদি সরকার,রিয়াল জমার ভিত্তিতে সিরিয়াল অনুযায়ী সব হাদি জবেহ করেন।
    • ✪আনুমানিক দুপুর ১২/১টার মধ্যেই সব হাদি সম্পন্ন করে থাকেন।
    • [Talked with Saudi Hadi Bank and got this info ]

    ✪  ব্যাংক থেকে যে টোকেন দেয় সেটায় হাদীর সময় দেয়া থাকে।

    ✪  হাদির কুপন এ যে মোবাইল নাম্বার দেয়া আছে,সেখানে মেসেজ পাঠানো হয়,যদিও তারা বলে থাকেন মেসেজ পাঠাবেন না।

    ✪  নেটওয়ার্ক/সার্ভার এর সমস্যার জন্য কেউ মেসেজ আগে পান, কেউ পরে,কেউ আবার পান না।

    এজেন্সির মাধ্যমে দিয়ে থাকলে, একজন যেয়ে দেখা ভালো পশু জবেহ হয়েছে কিনা।

    ✪  অনেক অসাধু এজেন্সি হাদি দেন না।অথবা মক্কা ও মিনার সীমানার বাইরে জবেহ দেন,যা হাদী হিসেবে গ্রহনযোগ্য হবেনা।

    ✪  অনেকে পশু জবেহর পরে সেই মাংস বিক্রি করে দেন।(সকল এজেন্সি এক নয়।)

    যেহেতু হাদীর নিয়তে আপনি টাকা দিয়েছেন, তাই, ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাংকে টাকা দেয়ার সাথে সাথেই, আপনার হাদি আদায় সম্পন্ন হয়ে গেলো। (Explained by – “Prof dr abu bakar Muhammad Jakaria” on our Hajj training session)

     

    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

    হলক/কসরঃ

    *************

    হাদী হয়ে গেলে মাথা মুন্ডন/হলক করা ওয়াজিব।হলক্ব করার পর, আপনি ইহরাম মুক্ত হলেন।

    ইহরাম মুক্ত হয়ে, পরিস্কার করে গোসল করে সুগন্ধি লাগাবো সুন্নত।

    ইহরাম খুলে স্বাধারন পোশাক পরতে হবে।

     

     

     

    তাওয়াফ-এ জিয়ারা ও সায়ীঃ

    *****************************

    এই ফরজ তাওয়াফ ও সায়ী ইহরাম মুক্ত হয়েই করতে হবে।

    হজ্ব শুরুর আগে এবং ১০ই যিলহজ্ব এর আগে করা যাবেনা।

    হজ্বের নিয়ম অনুসারে ১০/১১/১২ই যিলহজ্ব এর যেকোন দিন এই ফরজ তাওয়াফ ও সায়ী করা যাবে।

    নবী(সাঃ) ১০ই যিলহজ্ব – সূর্য ঢোলে যাওয়ার পর তাওয়াফ সম্পন্ন করেছিলেন। ঈদের দিন তাওয়াফ করা সুন্নত ও উত্তম।

     

    তাওয়াফ ও সায়ী করলামঃ

    ****************************

    ১০ই যিলহজ্ব /ঈদের দিন মানুষের ভিড়টা অনেক বেশি থাকে। যেহেতু বেশিরভাগ লোক আসরের পর থেকে তাওয়াফ এ আসে, তাই সবাইকে এক সাথে (কাবাঘরের দিকে নিচের তলায়) ভিতরে ঢুকতে দেয়না। সবাইকে ২য়/৩য় তলাতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

    আমাদের ইচ্ছা ছিলো কাবা ঘরের সামনেই তাওয়াফ করবো।তাই, দুপুর ৩.৩০থেকে অপেক্ষা করতে থাকি ৭৯ নাম্বার গেটে। মাগরিব এর স্বলাতের সময়(৭টায়) ঢুকতে পারি। তাওয়াফ ও সায়ী শেষ হতে হতে, প্রায় রাত ১টা বেজে যায়।

     

    ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

    মক্কায় থেকে মিনায় আসা

    ************************

    মক্কাতে রাতের খাবার খেয়ে টেক্সি খুজতে থাকি, যেনো মিনার সীমানা পর্যন্ত কিছুটা পথ এগিয়ে দেয়। তাওয়াফ ও সায়ী করে এমনেতেই পা ব্যাথায় কেউ দাড়াতে পারছিলাম না। তার উপর টেক্সি পেতে অনেকটা পথ হাটতে হলো।কেউ ওইদিকে যেতে চায়ছেনা।

    বাসের যাওয়ার চেস্টা করে ব্যর্থ হলাম, প্রচুর ভীড়।

    রাত ২টার পর উবার পাই। ১০/১৫ মিনিট ঘুরে,মিনার সীমানায় “বিনদাউদ” এর সামনে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে যামারার বিল্ডিং দেখা যায়।

    পুরোটা পথ হেটে যখন তাবুতে এসেছি, তখন রাত ৩.৩০ — তাহাজ্জুদ এর আজান দিচ্ছে।

    ১০ই যিলহজ্ব ভোর ৪টা থেকে হাটা শুরু করেছিলাম, হাটা শেষ হল ১১ই যিলহজ্ব ভোর ৩.৩০।

     

হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট
লোডিং হচ্ছে...